নইন আবু নাঈম তালুকদার শরণখোলা থেকেঃ
বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবসে সুখবর—পূর্ব সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা বেড়েছে! ২০২৩-২৪ সালের শুমারিতে পূর্ব সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১২৫টিতে পৌঁছেছে, যা ২০১৮ সালের তুলনায় ১১টি বেশি। কটকা, কচিখালী ও কোকিলমুনির বনাঞ্চলে দলবদ্ধভাবে বাঘের চলাফেরার খবর পাওয়া যাচ্ছে। কখনো দুই-তিনটি, কখনো চারটি বাঘ একসাথে দেখা যাচ্ছে। নদী-খাল পার হতে বাঘের সাতার কাটা দেখছেন পর্যটকরা, যা তাদের জন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির মতে, হরিণ ও বুনো শুকরের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে বাঘের খাদ্য সংকট কমেছে। এছাড়া, ঝড়-বন্যায় আশ্রয়ের জন্য ১১টি উঁচু কিল্লা তৈরি করা হয়েছে। বনবিভাগ ও স্থানীয় ভিলেজ রেসপন্স টিমের কড়া নজরদারিতে চোরা শিকারীর সংখ্যা কমেছে, ফলে বাঘের সংখ্যা বাড়ছে।
শরণখোলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ টিমের সভাপতি নাজমুল ইসলাম জানান, স্থানীয় জনগণের মধ্যে বাঘ সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে বাঘের আবাসস্থল ধ্বংসের হার কমেছে।
চোরাশিকার বন্ধে কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।আন্তর্জাতিক সহায়তা: বিশ্বব্যাপী সংস্থাগুলোর সহায়তায় সুন্দরবনে গবেষণা ও সংরক্ষণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে, যা ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা রানা দেব জানান, "বাঘ সংরক্ষণে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। চোরা শিকারীদের দৌরাত্ম্য কমে আসায় বাঘের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা বাঘ শিকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইন বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন।